• ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Matua

রাজ্য

ঠাকুরনগরে গোপন বৈঠক! বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমনির

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনায় উদ্বেগে রয়েছেন বহু মতুয়া ভোটার। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও মতুয়া সমাজের মধ্যে সেই উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।এই পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। বনগাঁর বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করতে যান রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমনি অধিকারী। সূত্রের খবর, দুজনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে একান্তে আলোচনা হয়। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।বিশেষ করে সামনে যখন বিধানসভা নির্বাচন, তখন এই বৈঠককে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিত।তবে বৈঠক শেষে মুকুটমনি অধিকারী দাবি করেন, এটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাঁর কথায়, তিন প্রজন্ম ধরে আমরা ঠাকুরবাড়িতে আসছি। এর আগেও বহুবার এসেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। দলবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের আগে নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হয়, কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু নেই।অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও বলেন, এই সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। তাঁর দাবি, মুকুটমনি অধিকারী গাড়ির পুজো দিতে ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন। দলবদল নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দিতে পারে। কারণ ভোটের আগে দলবদল বা নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়া বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়।উল্লেখ্য, দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রানাঘাট দক্ষিণ আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন মুকুটমনি অধিকারী। পরে লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি দল বদলে তৃণমূলে যোগ দেন এবং রানাঘাট লোকসভা আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এরপর তৃণমূলের টিকিটে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হন।

মার্চ ০৮, ২০২৬
রাজ্য

নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা! মতুয়াদের সামনে প্রশ্নের পাহাড়, বিজেপিকে কড়া বার্তা মমতার

বঙ্গে এখন নাগরিকত্ব ও নতুন তালিকা ঘিরে জোর চর্চা। তার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় মতুয়া সম্প্রদায়। এই পরিস্থিতিতে মতুয়াদের ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বড়মা বীণাপানি দেবী-র তিরোধান দিবসে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মতুয়াদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মানুষকে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে। এই অন্যায় মানা হবে না, লড়াই চলবে। তাঁর দাবি, বিজেপির চক্রান্তেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মতুয়া মহাসঙ্ঘের বহু অনুসারী দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করলেও অনেকের কাছে পুরনো নাগরিকত্বের নথি নেই। তাই এই বিষয়টি বারবার নির্বাচনের আগে সামনে আসে।সাম্প্রতিক প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বহু মতুয়ার নাম বিচারাধীন হিসাবে রয়েছে। বসিরহাট, নদিয়া, রানাঘাট, বনগাঁ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই চিত্র সামনে এসেছে। অথচ বনগাঁ, রানাঘাট, বারাসত, গাইঘাটার মতো কেন্দ্রে মতুয়া ভোট বড় প্রভাব ফেলে। ফলে ভোটের আগে এই অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।দুই হাজার উনিশ সালে কেন্দ্র সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ করে। এই আইনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। বিজেপির দাবি, এই আইনের ফলে মতুয়া শরণার্থীরা সহজেই নাগরিকত্ব পাবেন।অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, মতুয়ারা আগেই ভারতের নাগরিক। নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই আইনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ সুকান্ত মজুমদার পাল্টা দাবি করেছেন, তৃণমূলের প্রচারের জন্যই অনেক মতুয়া ফর্ম পূরণ করেননি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ভয় দেখিয়েছিল যে ফর্ম পূরণ করলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। এখন অনেকেই বুঝতে পারছেন ভুল হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে আবেদন করতে চাইছেন।তবে উদ্বাস্তু মতুয়া পরিবারগুলির মধ্যে এখনও একাধিক প্রশ্ন ঘুরছে। নাগরিকত্বের শংসাপত্র কবে হাতে পাবেন? তার আগে কি নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাবে? এবারের ভোটে তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। ফলে মতুয়া গড়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।

মার্চ ০৫, ২০২৬
রাজ্য

ঠাকুরবাড়িতে অভিষেক যাবেনই? শান্তনুর হুঁশিয়ারিতে উত্তাল মতুয়া রাজনীতি

মতুয়াদের পাশে দাঁড়াতে আগামী ৯ জানুয়ারি ঠাকুরবাড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাহেরপুরে সভা শেষে তিনি হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন বলেই দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই সফর ঘিরেই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুজো দিতে দেওয়া হবে না।শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, ভোটের রাজনীতি করতেই অভিষেক ঠাকুরনগরে আসছেন। তিনি বলেন, কত পুলিশ নিয়ে অভিষেক আসতে পারেন, সেটাও তিনি দেখবেন। ওই দিন হাজার হাজার মতুয়া মানুষ জড়ো হবে এবং ধিক্কার মিছিল বেরোবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষমতা থাকলে কেউ আটকাক। জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ওই দিন দুপুর দুটো নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরবাড়িতে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, যে কোনও তীর্থস্থানে যাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে।যদিও শান্তনু ঠাকুর ফের দাবি করেন, ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ আসতে পারে, তাতে তাঁর আপত্তি নেই। কিন্তু অভিষেক যদি পুলিশ বাহিনী নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করতে আসেন, তা হলে তাঁকে পুজো দিতে দেওয়া হবে না। ভোটের আগে কেন তিনি সেখানে যেতে চাইছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন শান্তনু।এই নিয়ে শান্তনু ঠাকুরকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ নিয়ে নয়, মানুষের ভালোবাসা নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে যাবেন। তাঁর প্রশ্ন, ঠাকুরবাড়ি কি শান্তনু ঠাকুরের ব্যক্তিগত সম্পত্তি? হরিচাঁদ ঠাকুর কখনও বিভেদ বা সংঘর্ষের কথা বলেননি, তিনি মানুষের মিলন আর ভক্তির কথা বলেছেন। শান্তনু ঠাকুর এই মন্তব্য করে নিজের বংশের জন্যই কলঙ্কজনক অধ্যায় তৈরি করছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
কলকাতা

ভোটার তালিকার আতঙ্কে মতুয়ারা, কলকাতা থেকে বড় আশ্বাস অমিত শাহের

এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই দেখা গিয়েছে, বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম তাতে নেই। এর ফলে নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মতুয়াদের মধ্যে। সেই আতঙ্ক থেকেই একাংশ আন্দোলনের পথেও নেমেছেন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে ওপার বাংলা থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের আশ্বস্ত করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যারা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। সকলকেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়াকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করে আসছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শুরু থেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। যদিও বিজেপির তরফে বারবার বলা হয়েছিল, চিন্তার কোনও কারণ নেই। মতুয়া মহাসংঘের এক সংঘাধিপতি তথা সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে মতুয়া কার্ডও বিলি করা হয়। তবে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, বহু মতুয়ার নাম ভোটার তালিকায় নেই।এর পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর মন্তব্য করেন, যদি ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ যায়, সেখানে এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ পড়লে তা মেনে নেওয়া উচিত। এই মন্তব্যে মতুয়া সমাজে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে প্রতিবাদ সভার ডাক দেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের আর এক সংঘাধিপতি ও তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তা ঘিরে উত্তেজনাও ছড়ায়। মমতাবালাপন্থী মতুয়ারা আগামী ৫ জানুয়ারি পথ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতা থেকে মতুয়াদের আশ্বস্ত করলেন অমিত শাহ। শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যারা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের ক্ষতি করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, সকল শরণার্থীকেই নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
রাজ্য

SIR বিতর্কে রাজনীতির নতুন মেরুকরণ, মতুয়াদের মিছিলে অধীরের সায়

সোমবার বিকেলে কলকাতার রাস্তায় বড় মিছিল করতে চলেছে মতুয়াদের একাংশ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ মিছিল হবে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত। এই মিছিলে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী হাঁটতে পারেন বলেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি নিজেই এই মিছিলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।এই মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিল শুরু হবে। ভোটার তালিকার সংশোধনের ফলে মতুয়াদের নাম বাদ পড়তে পারেএই আশঙ্কা থেকেই মূলত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। তাঁদের দাবি, কারও ভোটাধিকার যেন কেড়ে নেওয়া না হয়।মতুয়াদের একাংশের মনে এখন গভীর আতঙ্ক কাজ করছে। দেশছাড়া হয়ে এ দেশে এসে নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পেয়েছেন তাঁরা। নতুন করে ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে তাঁদের নাম সবার আগে বাদ পড়ে যাবে কি না, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তা। সেই আশঙ্কা দূর করতেই এবার রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত।এই মিছিল শেষে কমিশনের দফতরে ডেপুটেশন জমা দেবেন আন্দোলনকারীরা। যদিও এই মিছিলে মমতাবালা ঠাকুর নিজে থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সোমবার থেকেই সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেই কারণে তিনি দিল্লিতে থাকতে পারেন।কয়েকদিন আগেই এই এসআইআর-এর প্রতিবাদে অনশনে বসেছিলেন মমতাবালা ঠাকুর ও তাঁর অনুগামীরা। সেই অনশন টেনেছিল টানা দশ দিনেরও বেশি সময়। সেই অনশনে যোগ দিয়েছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরীও। এবার আবার তিনি মতুয়াদের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন বলেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বেড়েছে।এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেছেন, একই বৃন্তে যেন এখন সিপিএম, কংগ্রেস ও তৃণমূল। এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
কলকাতা

মঞ্চ প্রস্তুত, ভিড় তৈরি—তবু কেন উড়তে পারল না মমতার হেলিকপ্টার? সামনে এল চাঞ্চল্যকর কারণ

মতুয়াগড়ে প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। মঞ্চ তৈরি, নিরাপত্তা মোতায়েন, রুটমার্চের পথ পুরোপুরি খালি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেনএই প্রত্যাশায় ঘিরে ফেলেছিল এলাকা। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তেই বদলে গেল পুরো সফরসূচি। হেলিকপ্টারে যাত্রা করার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হল না। বাধ্য হয়ে সড়কপথেই পৌঁছতে হল তাঁকে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্ধারিত হেলিকপ্টারের ইনস্যুরেন্স বা বিমা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে উড়ান বাতিল করতে হয়। এত বড় গলদ জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। যে সংস্থা হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষেবার দায়িত্বে ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিশ জারি হয়েছে।পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এদিন স্পষ্ট জানান, সংস্থারই দায়িত্ব ছিল হেলিকপ্টারের বিমা সঠিক সময়ে নবীকরণ করা। কিন্তু তারা দাবি করেছে, লন্ডনের একটি সংস্থার মাধ্যমে এই ইন্সুরেন্স করানো হয়। সময়ের ফারাকের কারণ দেখিয়ে তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার আগে বিমা নবীকরণ সম্ভব নয়। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে শেষ মুহূর্তে তৈরি হল এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।যেখানে সমস্ত প্রস্তুতি আঁটসাঁট, সেখানে এমন প্রশাসনিক ফাঁক চোখে লাগার মতোই। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আয়োজনের মাঝে এই ভুলে একপ্রকার অস্বস্তি ছড়িয়েছে প্রশাসনের মধ্যেই।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

তৃণমূলের দলীয় বৈঠকে মমতাবালাকে কটুক্তির অভিযোগ, উপপ্রধানকে গ্রেফতারের দাবি

দলীয় বৈঠক তৃণমূল উপপ্রধানের গালাগাল ও কটুক্তির শিকার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল কর্মী। সরব হলেন মতুয়া ভক্তরা। পার্থ ভৌমিকের সম্পর্কে কিছু কথা বলার জন্যে কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, আর কিছু নয় বলে দাবি তৃণমূল জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের।একুশে জুলাই এর প্রস্তুতি সভা ছিল সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গায়। অভিযোগ, সেখানে বক্তব্য রাখার সময় গোপালনগর চৌবেরিয়া ১ নাম্বার গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুনীল সরকার মমতা ঠাকুরকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করেন। এমনকি বৈঠক শেষে মমতা ঠাকুর বাইরে বের হলে তাঁকে উদ্দেশ্য করে সুনীলসহ আরও কয়েকজন কটুক্তি করে এবং অশ্লীল অঙ্গিভঙ্গি করে, এমনকি তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়। এবং ছোট জাত বলে আক্রমণ করা হয়। এই মর্মে সোমবার রাতে সব্যসাচী ভট্ট নামে এক তৃণমূল কর্মী গাইঘাটা থানায় এফ আই আর দায়ের করেন। অভিযোগ করার সময় সব্যসাচীর সঙ্গে ছিলেন মতুয়া ভক্তরা ও গোসাইরা। অভিযুক্তর গ্রেফতারের দাবি করেন তারা। তারা বলেন, মাকে গালাগালি দেওয়া মানে আমাদের মতুয়া সমাজকে গালি দেওয়া। এটা আমরা কোনওভাবেই মেনে নেব না। ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করা হয় তাহলে তীব্র প্রতিবাদ হবে।এই বিষয়ে অভিযুক্ত চৌবেড়িয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুনীল সরকার জানিয়েছেন, মমতা ঠাকুর বক্তব্য রাখতে গিয়ে নানা কথার মধ্যে দিয়ে জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস ও পার্থ ভৌমিককে আক্রমণ করছিল। আমি শুধু প্রতিবাদ করে বলেছি আপনাদের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের বৈঠকে এটা আলোচনা করবেন। আমি যদি উনাকে গালাগাল করে থাকি সেটা প্রমাণ করুক। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদিও বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, গতকাল একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় চেয়ারম্যান পার্থ ভৌমিক সম্পর্কে কিছু কথা বলাতে কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আর কিছু নয়। তৃণমূলের সভায় মমতা ঠাকুরকে উদ্দেশ্য করে গালাগাল ও জাত তুলে কটুক্তি নিয়ে কটাক্ষ করা প্রসঙ্গে শান্তনু ঠাকুর বলেন, ওদের নেত্রী হরিচাঁদ গুরুচাঁদ নিয়ে যা বলেছেন তাতে ছোট নেতা কি বলবে। মমতা ঠাকুর হারিকাঠে গলা দিয়েছে, কি হবে বুঝতে পারছে না। ওর লজ্জা ঘৃণা ভয় কিছু নেই। এই বিষয়ে মমতা ঠাকুরবালার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জুন ১৭, ২০২৫
রাজ্য

মতুয়া মেলা উপলক্ষ্যে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে দুই পরিবারের আলাদা আলাদা নিশান উত্তোলন

প্রতিবছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি (মধু কৃষ্ণ ত্রাদশীতে ) উত্তর ২৪ পরগনা ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ির কামনা সাগরে পুন্য স্নান হয়। স্নান উপলক্ষ্যে দূরদূরান্ত থেকে মতুয়া ভক্তরা এই দিনে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আসেন। পুন্য স্নান উপলক্ষ্যে ঠাকুরনগরে বসে মতুয়া ধর্ম মহামেলা। এবছর মার্চ মাসের ২৭ তারিখে সেই পুন্য স্নান পড়েছে। বুধবার ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া নিশান উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মেলার সূচনা হয়। তবে মমতা ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ এবং শান্তনু ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা নিশান উত্তোলন হয়েছে। আর সেখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে এবছর মতুয়া ধর্ম মহামেলার রাশ কার হাতে থাকবে। তবে মমতাবালা ঠাকুর বলেন, তিনি চাইছেন মতুয়াদের দুটি সংগঠন একত্রিতভাবে ধর্ম মহামেলা করুক। একত্রিত হবে মেলা করার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনা কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। শান্তনু ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া সঙ্গে সভাপতি রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, দুই পরিবার একত্রিতভাবে মেলা করা নিয়ে একটা কানাঘুষা চলছে। আশা করা যায় সমস্ত অসুবিধা মিটে যাবে।

মার্চ ০৫, ২০২৫
রাজনীতি

BJP: এবার বিজেপিতে 'বিদ্রোহী' পাঁচ মতুয়া বিধায়ক

নয়া রাজ্য কমিটি গঠনের তিন দিনের মাথায় বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে তৈরি করা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন পাঁচ মতুয়া বিধায়ক। এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি গ্রুপ ছেড়ে দেওয়া বিধায়করা। শুধু তাই নয়, শোনা যাচ্ছে শীলভদ্র দত্ত, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপির মিডিয়া গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। এ নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।বিজেপি বিধায়কদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন পাঁচ মতুয়া বিধায়ক। তাঁরা হলেন, গাইঘাটায় বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার, কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায় এবং রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। আর এই কাণ্ড ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে।এ নিয়ে প্রকাশ্যে অবশ্য মুখ খোলেননি গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া পাঁচ বিধায়কের কেউই। বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। মাফ চাইছি। কেন বেরোলাম তা এই মুহূর্তে বলতে চাইছি না। গত ২২ ডিসেম্বর নতুন রাজ্য কমিটির ঘোষণা করেছে পদ্মশিবির। ঘটনাচক্রে সেই কমিটিতে কোনও মতুয়া নেতা নেই। সেই বার্তাই কি একসঙ্গে পাঁচ মতুয়া বিধায়ক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে দিতে চেয়েছেন?উত্তর ২৪ পরগনা বিজেপি-র একাংশের দাবি, রাজ্যে পদ্মফুলের বাড়বাড়ন্তের কারিগর মতুয়ারা। কিন্তু রাজ্য কমিটিতে সেই মতুয়াদের কোনও প্রতিনিধি না থাকাতেই কি মনঃকেষ্ট গ্রুপ ছেড়ে যাওয়া বিধায়করা? এই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের পদক্ষেপে। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন তিনি।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২১
রাজ্য

মতুয়া ও রাজবংশীদের হাত ধরে কিছুটা মান বাঁচল বিজেপির

উত্তরে রাজবংশী। দক্ষিণে মতুয়া। প্রান্তিক, উপেক্ষিত দুই সমাজ অনেকটাই পাশে না থাকলেরাজ্য বিজেপির আসন সংখ্যা আরও বেশ কিছুটা কমতো বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। তাঁদের সমর্থনে ভর দিয়েই একটা সম্মানজনক সংখ্যায় পৌঁছে গিয়েছে গেরুয়া শিবির। না হলে আসনসংখ্যা হয়তো অর্ধশতকের আশপাশে আটকে যেত পদ্মের। ভোটের ফলাফলের বিন্যাস বলছে, মতুয়া ও রাজবংশী প্রভাবিত প্রায় প্রতিটি আসন জিতেছে বিজেপি। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা দুই সম্প্রদায়ের মানুষের প্রভাব রয়েছে এমন এলাকার ভোটবাক্সে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি রাজ্যের শাসকদল। ব্যতিক্রম একমাত্র উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া। মতুয়া ভোট ঘরে তুলতে দুই তরফেই দীর্ঘ লড়াই জারি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার বেশ কিছু আসন জেতা-হারা নির্ভর করে মতুয়া ভোটের উপরে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির প্রিয় ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি রাজনৈতিক ক্ষমতার টানাপোড়েনে দুই ভাগে বিভক্ত। সেখানকার ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যে রাজ্যের তরফের উন্নয়নকাজ অব্যাহত। অন্যদিকে আবার বিজেপির তরফেও রয়েছে নানা প্রতিশ্রুতি এবং এনআরসি ইস্যুতে মতুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে বনগাঁর উত্তর ও দক্ষিণ, বাগদা, গাইঘাটা জিতেছে বিজেপি। হাবড়া আসনে সামান্য ভোটে জিতেছেন খাদ্যমন্ত্রী। পাশের জেলা নদিয়ায় রানাঘাট উত্তরপূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, কৃষ্ণগঞ্জে মতুয়া ভোটের আধিক্য রয়েছে। সেখানে বিজেপি জিতেছে। মতুয়া নির্ণায়ক শক্তি এমন আসন হরিণঘাটা, কল্যাণী জিতেছে গেরুয়া শিবির। তবে তেহট্টে মতুয়া ভোট পেয়েছে তৃণমূল। উত্তরবঙ্গে গত লোকসভা ভোটেই ভাল ফল করেছিল বিজেপি। তার আগের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে যে কিছুটা হলেও হাওয়া রয়েছে তা বোঝা গিয়েছিল। এবার দেখা গেল রাজবংশী এবং কামতাপুরী সম্প্রদায়ের প্রভাব রয়েছে এমন আসনগুলি হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের।অন্যিদিকে, কোচবিহারের দিনহাটা, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ, মেখলিগঞ্জ, কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ আলিপুরদুয়ারের বেশ কিছু আসন জিততে পারেনি তৃণমূল। এগুলি সবই রাজবংশী ভোটার বেশি। তারাই নির্ণায়ক শক্তি। গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনেও প্রাণ গিয়েছে এখানকারই মানুষের। এখানে দলের মধ্যে খুবই ঝামেলা রয়েছে যা ভোটের আগেও মেটানো যায়নি। নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে ভোটের বাক্সে। আবার পাহাড়ের দার্জিলিং ও কার্সিয়াংসহ ডুয়ার্সের আদিবাসী অধু্যষিত একাধিক আসন জিতেছে বিজেপি। যেগুলি পকেটে না পুরতে পারলে মোট আসনের নিরিখে সংখ্যাটা একটুও ভারী বা ওজনদার মনে হত না। তথ্য ও পরিসংখ্যানের প্রশ্ন মতুয়া এবং রাজবংশী ভোট নিজেদের ঝুলিতে ভরতে না পারলে কম করে কুড়িটি আসন কম পেতে পারত বিজেপি। এই প্রান্তিক, উপেক্ষিত মানুষগুলির একটা বড় অংশই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মান বাঁচাল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মে ০৩, ২০২১
রাজনীতি

বাতিল হওয়া দুই জেলায় আজ শাহর সফর

এর আগে বাংলা সফর বাতিল করতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। আজ, বৃহস্পতিবার কোচবিহারে পরিবর্তন যাত্রার সঙ্গে ঠাকুনগরের কর্মসূচিতেও যোগ দেবেন দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি। কলকাতায় তিনি মিলিত হবেন সামাজিক মাধ্যমের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গেও।কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১১ টা ১০ মিনিট নাগাদ কোচবিহারে মদন মোহন মন্দিরে যাবেন অমিত শাহ। ১১ টা ৩০ মিনিটে তিনি রাসমেলার ময়দানে দলের পরিবর্তন যাত্রায় হাজির থাকবেন। ২০১৮-তে এই কোচবিহারে রথযাত্রার কর্মসূচি বাতিল করতে হয়েছিল। আসতে পারেননি অমিত শাহ।এরপর কোচবিহার থেকে কপ্টারে চড়ে অমিত শাহ উড়ে যাবেন উত্তর ২৪পরগনার ঠাকুরনগরে। সেখানে ৩টে ২০ মিনিট নাগাদ হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দির দর্শন করবেন। তারপর ৩টে ৪৫ মিনিটে পাশের মাঠে তিনি সভা করবেন। বুধবার সন্ধা ৬টা নাগাদ কলকাতায় সায়েন্স সিটিতে সামাজিক মাধ্যমের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মিলিত হবেন।এর আগে ঠাকুরনগরে মতুয়াদের সভায় হাজির থাকার কথা ছিল। দিল্লিতে ইজরায়েল দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণ ঘটে। তখন দুদিনের বাংলা সফর বাতিল করা হয়। মতুয়াদের একাংশ ক্ষোভপ্রকাশও করেছিল। সেই সময় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঠাকুরনগরে আসবেনই অমিত শাহ।অমিত শাহ আসার আগের দিন টুইট বার্তায় লিখেছেন,আমি উৎসুক,আগামীকাল বাংলায় উপস্থিত হওয়ার জন্য।কোচবিহার থেকে BJP Bengal #PoribortonYatra র চতুর্থ পর্যায় সূচিত হবে এবং ঠাকুরনগরে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আমি আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার স্বেচ্ছাসেবীদের সাথেও আলাপচারিতায় অংশগ্রহণ করব।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১
রাজনীতি

অমিত শাহর গরহাজিরাতেও রবিবার বিজেপির বড় চমক হাওড়ায়

উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে অমিত শাহর সভা বাতিল করা হয়েছে। দিল্লির বিষ্ফোরণের জেরে তিনি আসতে পারছেন না। তবে রবিবারের হাওড়ার ডুমুরজলার যোগদান মেলা যথারীতি হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু কোন কেন্দ্রীয় নেতা হাজির থাকবেন ওই সভায় তা শনিবার সকালে জানাতে পারেননি দিলীপ ঘোষ।শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি বলেন, অমিত শাহের সফর বাতিল হলেও আগামীকাল হাওড়ায় যথারীতি যোগদান মেলা অনুষ্ঠিত হবে। দিল্লি থেকে আসবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এছাড়া থাকছে নানা চমক। তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকবে ২৩শে মের পর।ইতিমধ্যে হাওড়ার একাধিক তৃণমূল নেতা দল ছেড়েছেন। কেউ আবার দল থেকে বহিষ্কারও হয়েছেন। প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক ও দলীয় পদ ছেড়ে দিয়েছেন। বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে বহিষ্কার করেছে দল। আগেই জেলা সভাপতি ও মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরেছেন। অনুপম ঘোষ জেলার যুব সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এছাড়াও হাওড়ায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশের তালিকা দীর্ঘ। পাশের জেলা হুগলিতেও তৃণমূলের ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এঁরা কেউ এখনও সরাসরি বিজেপি যাওয়ার কথা ঘোষণা করেননি। কিন্তু রবিবার ডুমুরজলার যোগদান মেলায় এঁদের অনেককে দেখা যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ৩০, ২০২১
রাজনীতি

অমিত শাহর রাজ্য সফর বাতিল

আগামী কাল রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করেছে বিজেপি। দিল্লিতে ইজরাইল দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণের জেরেই এই কর্মসূচি বাতিল বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার রাতেই কলকাতা বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। শনিবার রাজ্যে একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর।শনিবার ঠাকুরনগরে জনসভায় হাজির থাকার কথা ছিল বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতির। সায়েন্সসিটিতে একটি প্রোগ্রাম তাঁর যাওয়ার কথা ছিল। মায়াপুরে ইসকনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করারও কথা ছিল অমিত শাহর। রাজ্য বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে আপাতত শনিবার রাজ্যে অমিত শাহের সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল বাতিল করা হয়েছে। কারণ ইজরায়েল দূতাবাসে বোমা বিস্ফোরণের জন্য এই মুহূর্তে দিল্লিতেই থাকবেন তিনি। রবিবার হাওড়া ডুমুরজলার যোগদান মেলা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের যোগদান করার কথা ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই প্রোগ্রাম কিভাবে হবে এখনও তা স্থির করা হয়নি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি পরে জানিয়ে দেবে বলে জানা গিয়েছে।

জানুয়ারি ২৯, ২০২১
রাজনীতি

মতুয়া গড়ে অমিত শাহ, টার্গেট ২ লক্ষের জমায়েত

রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর রাজ্য সফরকে ঘিরে বিজেপি শিবির যেমন তেমনই ঘর ভাঙা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ ঘাসফুল শিবিরে। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে অমিত শাহের সভাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্য বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তাঁরা মঞ্চ তৈরি ও হেলিপ্যাড তৈরীর কাজ খতিয়ে দেখলেন lআগামী ৩০ শে জানুয়ারী ঠাকুরনগরে সভা করবেন দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। ওই সভার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। বুধবার দুপুরে রাজ্য বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য ও সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ঠাকুর বাড়িতে সাংসদ শান্তুনু ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে সভাস্থল ও হেলিপ্যাড তৈরির কাজ পরিদর্শন করেন। ও শান্তুনু ঠাকুরের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করেন। বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর বলেন, আমার ধারনা অমিত শাহর সভায় দুলক্ষের বেশি লোক হবে। দ্রুত গতিতে চলছে সভার প্রস্তুতি। মতুয়া সংগঠন ও বিজেপি এক সঙ্গেই সভার আয়োজন করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার রাজনীতিতে প্রায় ৭০টি আসনে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব আছে। সেই ভোট ধরে রাখতেই মরিয়া বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস।

জানুয়ারি ২৭, ২০২১
রাজনীতি

কেউ আমার মতো কাজ করে দেখাক, পদত্যাগ করবঃ মমতা

রাজ্যের সাড়ে ৯ কোটি মানুষ সরকারের কোনও না কোনও প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। ১০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পাবেন। জীবন থেকে মৃত্যু প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার। তাঁরপরেও কুৎসা ছড়াচ্ছে বিজেপি। কেউ আমার মতো কাজ করে দেখাক, পদত্যাগ করব। বনগাঁর জনসভা থেকে কিছুটা অভিমানী সুরে এমন কথাই জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সভা চলাকালীন কয়েকজন মহিলা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিজেদের দাবি জানাতে থাকেন। এই ঘটনায় কিছুটা ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি কিছুটা সামলে নিয়ে বলেন, এরকম ভাবে আমার দলীয় পাবলিক মিটিংয়ে দাবি জানাবেন না। কিছু বলার থাকলে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে যান। আমাদের চিঠি দিন। সবটা করা সম্ভব নয়, যতটা পারি করে দেব। অন্যায় দাবি করবেন না। সরকারেরও কিছু লিমিটেশন আছে, নিয়ম মেনে চলতে হয়। এরকম ঘটনায় কিছুটা দুঃখই পেলাম। আরও পড়ুন ঃ দিলীপ ঘোষ একটা ফোর টোয়েন্টি, দালালঃ অনুব্রত এদিনের সভা থেকে কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, মোদিবাবু গায়ের জোরে তিনটি কৃষি আইন করেছেন। কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে আলুর দাম ৬০টাকা কেজি, পেঁয়াজের দাম ১৮০ টাকা কেজি হয়ে যাবে। ডাল, আলুভাতও খাওয়া যাবে না। কিছু করার থাকবে না। কৃষকদের জিনিস কেড়ে বিজেপি চাইছে কর্পোরেটদের দিয়ে দিতে। মজুতদার, মুনাফাখোড়েদের সুবিধা করে দিতে। কৃষকরা ফসলের কত দাম পাবে তার কোনও গ্যারান্টি নেই। কৃষকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে ফের তৃণমূল সরকার আসবে এবং বিনামূল্যেই রেশন দেওয়া হবে সবাইকে বলেও এদিন জানিয়েছেন মমতা। মমতা এদিন বলেন, আমফানের পর হেলিকপ্টারে চড়ে নাটক করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কোনও টাকা দেয়নি। আমাদের টাকাই এক হাজার কোটি অ্যাডভান্স দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। আমাদের টাকাই আমাদের দিয়েছে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২০
রাজ্য

মতুয়ারা সকলেই নাগরিক, ঘোষণা মমতার

ক্যা ক্যা বলে প্রতারণা করা হচ্ছে। এদের একবার সুযোগ দিলেই ঠাকুমার বাবা, ঠাকুরদাদার জন্ম তারিখ চাইবে। দিতে পারবেন? রাজ্য সরকার আপনাদের নাগরিক বলে দিয়েছে। বনগাঁর গোপালনগরের সভা থেকে কেন্দ্রকে পালটা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার উদ্বাস্তু কলোনিগুলিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দাঁড়িয়ে বলছি মতুয়ারা সকলে নাগরিক। রাজ্যে যারা থাকেন, তাঁরা সবাই এরাজ্যের বাসিন্দা। আপনাদের কোনও প্রমাণপত্রের প্রয়োজন নেই। এনআরসি, এনপিআর করতে দেব না। মতুয়াদের উন্নয়নের স্বার্থেও রাজ্য সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেই ১০ কোটি টাকা মতুয়াদের উন্নয়নের স্বার্থে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা কমিটি তৈরি করলেই কাজ শুরু হবে। মমতা বলেন, ৩০ বছর ধরে বড়মার চিকিৎসা করিয়েছেন। মতুয়া মন পেতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেচ্ছেন হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুরের জীবনী স্কুল পাঠ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। গুরুচাঁদ-হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিতে ছুটি ঘোষণা করবে রাজ্য সরকার। এদিনের সভা থেকে একথাও তিনি ঘোষণা করেন। মমতা এদিন বলেন, রাজ্যে কে থাকবে তা রাজ্য ঠিক করবে। এটা রাজ্যের বিষয়। বিজেপি বাংলা থেকে বাঙ্গালীদের তাড়িয়ে গুজরাত বানাতে চাইছে। কিন্তু বহিরাগত গুন্ডা নয় বাংলায় বাংলার বাসিন্দারাই থাকবেন। বাইরে থেকে আরএসএসের গুণ্ডাদের নিয়ে আসছে বিজেপি। নজর রাখতে হবে। সিপিএম এর হার্মাদ, বিজেপির ওস্তাদ। আরও পড়ুন ঃ কৈলাস-দিলীপের নামে এফআইআর শিলিগুড়ি পুলিশের দলনেত্রী আরও বলেন, আমরা কথা দিলে কথা রাখি। আমরা বিজেপি পার্টি নয় যে ভোটের সময় কথা দিয়ে পালিয়ে যাব। বাইরে থেকে আরএসএস নিয়ে এসেছে। তারা মতুয়াদের ধর্ম সম্পর্কে শেখাচ্ছে। হিন্দু ধর্ম কী তা স্বামী বিবেকানন্দের থেকে শিখব। তোমরা কোন হরিদাস? পাড়ায় পাড়ায় বহিরাগত দেখলে এফআইআর করবেন। না নিলে আমাদের কার্যালয়ে জানাবেন।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২০
রাজ্য

মতুয়াদের নাগরিকত্বের জন্য কোনও সরকার কিছু করেনিঃ শান্তনু ঠাকুর

তিন কোটি মতুয়া ও নমঃশুদ্রকে ভারতবর্ষে নাগরিকত্বের জন্য ভিক্ষা করতে হচ্ছে। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল, বিজেপি কেউ ভিক্ষা দেয়নি। সোমবার ঠাকুরবাড়িতে মতুয়াদের সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, আর ভিক্ষা নয়। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় তিন কোটি মতুয়া ধর্মের মানুষের বাস করে। এখানে মতুয়া ধর্মের মানুষ কেন উপেক্ষিত? উপস্থিত মতু্যা ভক্তদের কাছে বিজেপি সাংসদের প্রশ্ন, কোন সরকারের কাছে জবাব চাইবেন? কোনও সরকার তার জবাব দেবে না। এই সরকার আসবে ওই সরকার যাবে। জাতিগত দিক দিয়ে কত দিন বিভাজিত করে রাখা হবে মতুয়াদের? রাজ্য রাজনীতিতে এক তৃতীয়াংশ ভোট থাকা মতুয়ারা ভবিষ্যতে রাজ্যের চালিকাশক্তি হয়ে উঠে নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার ডাক দেন তিনি। আরও পড়ুন ঃ শিলিগুড়িতে একই মঞ্চে ডান - বাম উভয় পক্ষ শান্তনুর দাবি, পূর্ব পাকিস্তান তৈরির আগে তাঁরাও ভারতীয় ছিলেন। তাঁরা ভারতীয় হিসেবে থাকতে চান। দেশভাগের সময় দুই ব্যক্তির সিদ্ধান্ত তাঁদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মতামত জানার প্রয়োজন বোধ করেনি কেউ। আর পূর্ব পাকিস্তান থেকে অত্যাচিরত হয়ে এদেশে আসার পর থেকেই বঞ্চিত মতুয়ারা। তাঁদের অধিকারের জন্য তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মতুয়াদের কাছে প্রতিশ্রুতি ছিল সাংসদ হয়ে মতুয়াদের নাগরিকত্বের সমস্যা মেটাবেন। বাস্তবে পার্লামেন্ট থেকে আইন পাশ হলেও লাগু হয়নি সেই আইন। আর তাতেই চটেছেন তিনি।

নভেম্বর ৩০, ২০২০
কলকাতা

বাগুইআটির মতুয়া পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন অমিত শাহের

বাগুইআটির একটি মতুয়া পরিবারে শুক্রবার মধ্যাহ্নভোজ সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা অমিত শাহ। মধ্যাহ্নভোজ সেরে গৃহকর্তা নবীন বিশ্বাসকে অমিত শাহ জানালেন , বাঙালিয়ানায় ভরপুর নিরামিষ খাবার খেয়ে তৃপ্তি পেয়েছি। এদিন সকাল থেকে কয়েকটি কর্মসূচি সেরে বিকেলের দিকে আমিত শাহ পৌঁছে যান বাগুইআটির আদর্শনগরের গৌরাঙ্গপল্লিতে। আরও পড়ুন ঃ আমার দল মিউজিক পার্টি, জল্পনা উড়িয়ে জবাব পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর প্রথমেই এলাকার হরিচাঁদ মন্দিরে যান শাহ। সেখানে পুজো দিয়ে ঢোকেন নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে। সেখানেই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য। ভাত, রুটি, ডাল, পনির, শুক্তো, চাটনি, পায়েস-সহযোগে জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া সারেন অমিত শাহ। অমিত শাহের সঙ্গে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, রাহুল সিনহা ও মুকুল রায়।

নভেম্বর ০৬, ২০২০
কলকাতা

মতুয়া উন্নয়ন পর্যদের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ মুখ্যমন্ত্রীর

মতুয়া, বাগদি, বাউড়ি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে উদ্বাস্তুদের পাট্টা বিলি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন ঘোষণা করেন , মতুয়া, বাগদি, বাউড়ি যে সম্প্রদায়ের হন না কেন, যে কলোনিতেই থাকুন না কেন এবার প্রত্যেকে পাবেন পাট্টা। বুধবার অনগ্রসর শ্রেণির প্রতিনিধিদের নিয়ে নবান্নের বৈঠকে এমনই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন , আজ থেকে ২৫ হাজার মানুষকে পাট্টা দেওয়া শুরু হয়েছে ৷ আরও ১ লক্ষ ২৫ হাজারের মতো পাট্টা দেওয়া হবে ৷ ধাপে ধাপে এই পাট্টা দেওয়া হবে ৷ আদিবাসীদের জমি কেউ কেড়ে নিতে পারবে না ৷ পাশাপাশি ডোকরা শিল্পীদের উন্নতির কথা বলেন তিনি ৷ স্বাস্থ্যসাথির আওতায় ডোকরা ও ছৌ শিল্পীদের আনা হয় ৷ আরও পড়ুন ঃ অফিস টাইমে রেলকে ২০০ ট্রেন চালানোর প্রস্তাব রাজ্যের তিনি আরও বলেন, ২০১১ থেকে তিন লাখ মানুষকে পাট্টা দেওয়া হয়েছে ৷ নিজভূমি, নিজগৃহতে বাড়ি করে দেওয়া হয়েছে ৷ আপনাদের দাবি ছিল নিঃশর্ত জমির দলিল দেওয়া হোক ৷ এই পাট্টা নিঃশর্ত জমির দলিল ৷ আমি ১৯৮৭ - ৮৮ থেকে উদ্বাস্তুদের জন্য লড়ছি ৷ অমিত শাহর নাম না করে মমতার মন্তব্য , ভোট এলেই অনেক নেতা হাজির হন। তারা উদ্বাস্তুদের কথা বলেন। পাশাপাশি মতুয়াদের জন্য নতুন বোর্ড গঠন করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মতুয়া উন্নয়ন পর্যদের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দও করলেন। তিনি বলেন, মতুয়াদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে। তাঁরা জানেন একসময় মতুয়াদের সঙ্গে কেউ ছিল না। আমি বড়মার সঙ্গে প্রথম থেকে ছিলাম। আগামীতেও মতুয়াদের পাশে থাকব।এদিন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানান, জন্মসূত্রে মিলবে সার্টিফিকেট। যাদের ওই নথিও থাকবে না, তাদের ক্ষেত্রে এলাকায় তদন্ত করে দেখা হবে। তার ভিত্তিতেই মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট মিলবে এখন থেকে। প্রসঙ্গত , রাজ্য সফরে এসে এক মতুয়ার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন অমিত শাহ। অমিত শাহের কলকাতায় পৌঁছনোর আগেই মতুয়া তথা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য দরাজহস্ত হলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনটাই মত রাজ্যের রাজনৈ্তিক মহলের।

নভেম্বর ০৪, ২০২০

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

গল টেস্টে ভয়াবহ মুহূর্ত! রাহুলের শটে হেলমেটে বল, হাসপাতালে শ্রীলঙ্কার ওপেনার

ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই গলে তৈরি হল উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কেএল রাহুলের জোরালো সুইপ শটের বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করল শ্রীলঙ্কার ওপেনার নিশান মধুশকার হেলমেটে। শর্ট লেগে ফিল্ডিং করার সময় এই আঘাত পান তিনি। ঘটনার পর দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও। কনকাশন পরীক্ষা করার পর মধুশকাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে। প্রভাত জয়াসূর্যের করা ওভারের পঞ্চম বলটি রাহুল সুইপ করেন। বলটি ব্যাটের মাঝখান থেকে প্রচণ্ড গতিতে শর্ট লেগ অঞ্চলের দিকে ছুটে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধুশকা বিপদ বুঝে দ্রুত মাথা নিচু করার চেষ্টা করলেও বলের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি তাঁর হেলমেটের মাঝামাঝি অংশে সজোরে আঘাত করে।আঘাতের পর বলটি ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। ফলে রান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতের ব্যাটাররা রান সম্পূর্ণ করেন। রাহুল অবশ্য প্রথমে রান নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল ইতিমধ্যেই দৌড় শুরু করে দেওয়ায় রানটি সম্পূর্ণ করতে হয়। রান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুশকার দিকে ছুটে যান রাহুল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।এরপর দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন শ্রীলঙ্কার ফিজিও এবং চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মধুশকার কনকাশন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তাঁকে আর মাঠে রাখা হয়নি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর চোটের প্রকৃতি বা গুরুতরতা এবং তিনি পরবর্তীতে এই টেস্টে ব্যাট করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।মধুশকার চোটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শ্রীলঙ্কা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাথায় সরাসরি বল লাগার ঘটনায় ক্রিকেটে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট হাতে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুলের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় দল। প্রথম উইকেটে দুজনে ৬৬ বলে ৪৭ রান যোগ করেন।তবে ১১তম ওভারের শেষ বলে ছন্দপতন ঘটে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন জয়সওয়াল। ৩৭ বলে ৩২ রানের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার।জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর ভারতের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন রাহুল ও দেবদত্ত পাড়িক্কল। দুজনেই ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। পাড়িক্কল আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করার পাশাপাশি রাহুলও নিজের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলে প্রথম সেশনেই ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।লাঞ্চের সময় ২৭ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১০১ রান। একদিকে ভারতীয় ব্যাটারদের দাপট, অন্যদিকে মধুশকার চোটপ্রথম দিনের প্রথম সেশন তাই দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন ছবি তুলে ধরল। এখন সকলের নজর নিশান মধুশকার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চ থেকে মাতঙ্গিনীর রক্তাক্ত পতাকা, বাঙালির হৃদয়ে অমর এই পাঁচ স্বাধীনতা সংগ্রামী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার মাটি যেমন জন্ম দিয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর মতো কিশোর বিপ্লবীকে, তেমনই তাম্রলিপ্তের মাটিতে উঠে এসেছে মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো সংগ্রামী নেতৃত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা স্বাধীনতার লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল।মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে উঠে ইতিহাসে অমর হয়ে যান ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে মুজফ্ফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে প্রফুল্ল চাকীর সঙ্গে বোমা হামলার ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হন। ১১ আগস্ট ১৯০৮ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখেও তাঁর নির্ভীকতা ও হাসিমুখ বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।অন্যদিকে, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পূর্ব মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত এই বৃদ্ধা ২৯ সেপ্টেম্বর তমলুক থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর আত্মবলিদান বাংলার নারীশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুশীল ধারা-র। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের যুদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বিদ্যুৎ বাহিনী, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।সতীশচন্দ্র সামন্ত ছিলেন তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রথম সর্বাধিনায়ক। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর গঠিত এই সমান্তরাল সরকার তমলুক ও কাঁথি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ত্রাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সরকারের কার্যক্রম ছিল উল্লেখযোগ্য।এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পরও তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে থাকেনি। পরবর্তীকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান থেকে মাতঙ্গিনীর পতাকা হাতে মৃত্যুবরণ, আর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সংগঠিত প্রতিরোধ, এই সমস্ত অধ্যায় প্রমাণ করে, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন বিপ্লবীর কাহিনি নয়। এটি ছিল অসংখ্য মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পাতায় ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী, সুশীল ধারা, সতীশচন্দ্র সামন্ত ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানের মাটিতে জন্ম বীর বিপ্লবীর, রাসবিহারী বসুর কর্মকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ শাসন

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাসবিহারী বসু এক অনন্য নাম। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক এই বিপ্লবীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের সুবলদহ গ্রামে। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বিনোদবিহারী বসু ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে জন্ম তাঁর।সুবলদহেই কেটেছে রাসবিহারী বসুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। ঠাকুরদা কালীচরণ বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনার পাশাপাশি লাঠিখেলা, সাঁতার ও নৌকা চালনার মতো শারীরিক কসরতেও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে দানা বাঁধে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা। পরবর্তী সময়ে চন্দননগরে পড়াশোনা করার সময় বিপ্লবী চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয়।কর্মজীবনে দেরাদুনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্কের কাজ করলেও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা। বাংলার পাশাপাশি উত্তর ভারত ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। ১৯১২ সালে দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের উপর বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি জাপানে পালিয়ে যান।জাপানে গিয়েও থেমে থাকেননি রাসবিহারী। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠিত করতে তিনি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স লিগ গড়ে তোলেন। ১৯৪২ সালে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুবলদহের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবীর দেশমুক্তির স্বপ্ন ও সংগ্রাম আজও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal